স্থাপিত : ১৯৮৬
বাংলা শিক্ষা শব্দটির উৎপত্তি ‘শিক্ষ’ ধাতু থেকে, যার অর্থ বিদ্যাগ্রহণ, শিক্ষা বা শেখা। পক্ষান্তরে শিক্ষার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘education’ এসেছে লাতিন শব্দ ‘এডুকেয়ার’ বা ‘এডকাতুম’ থেকে, যার অর্থ বের করে আনা। অর্থাৎ ভেতরের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা।
প্রতিটি মানুষ অন্তর্নিহিত অপার সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, যা সুপ্ত থাকে। শিক্ষা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশের জন্য উৎসাহ দেয় এবং তাকে সমাজের একজন উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো অর্জনে সহায়তা করে। শিক্ষা সামাজিকীকরণের অন্যতম উপাদান, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, “শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না, বিশ্বস্ততার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকেও গড়ে তোলে” ।
মানবজীবনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অনাদিকাল হতে মানুষ নিজস্ব প্রচেষ্টায় বহুবিধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান অর্জনই নয়, ব্যক্তির মানসিক, সামাজিক, শারীরিক বিকাশে সহায়তা করা। সততা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটানো এবং ব্যক্তিকে সৎ ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। সক্রেটিসের ভাষায় “শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ” ।
এই মহতী উদ্দেশ্যকে ধ্বজা ধরে বলাখাল মকবুল আহমেদ কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৮৬ সালে। শিক্ষানুরাগী মরহুম মকবুল আহমেদ এর প্রতিষ্ঠাতা। জন্মলগ্ন হতে অদ্যাবধি অগণিত শিক্ষার্থী এ বিদ্যাপীঠ থেকে ডিগ্রি অর্জন করে সমাজের নানা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছেন। এই সফলতার অংশীজন ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক সকলে। কার্যত সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোন মিশনই সফল হয় না । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য কেবল শিক্ষিত মানুষ তৈরি করা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সত্যিকার মানুষ গড়ে তোলা। কেননা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “শিক্ষিত মানুষের অভাব নেই পৃথিবীতে- কিন্তু শিক্ষিত বিবেকর বড্ড অভাব । আমাদের লক্ষ্য হোক শিক্ষিত বিবেকবান মানুষের সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি করা । সময় আর শিক্ষক দুজনেই আমাদের শিক্ষা দেয়। সময় ও শিক্ষকের মধ্যে শুধু একটাই পার্থক্য। শিক্ষক শিখিয়ে পরীক্ষা নেন, আর সময় পরীক্ষা নিয়ে তারপর শিক্ষা দেয়। সুতরাং ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সবাই সময়কে গুরুত্ব দিলেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হবে। ‘সময় নেই, সময় নষ্ট করার’- এই ভাবনাই হোক আমাদের ধ্যান-জ্ঞান।
বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রী কলেজের ওয়েবসাইটে স্বাগত জানাচ্ছি । বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রী কলেজ টি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ স্থাপিত একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের পাশে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বলাখালে অবস্থিত
কলেজটিতে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে অভিজ্ঞ, দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করা হয় । বর্তমানে কলেজটিতে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক বিভাগ ও স্নাতক পাস সার্টিফিকেট কোর্সে বি.এ, বি.এস.এস এবং বি.বি.এস শাখায় প্রায় মোট ৭০০ (সাতশত ) জন সাংস্কৃতি, ডিনাইট, catag শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে । পাঠ্যসূচিভুক্ত পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে কলেজের বেশ সুনাম ও কৃতিত্বের অর্জন রয়েছে । উলেখ্য যে, আমাদের কলেজের সমৃদ্ধি, ঐতিহ্য এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই ওয়েবসাইটটি আমাদের কলেজের সকল প্রয়োজনীয় তথ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং কৃতিত্বের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-দক্ষতাভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র গঠনে অংশীদার হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই ওয়েবসাইটটি সকলের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই ওয়েবসাইটিকে আরও সমৃদ্ধ ও সময়োপযোগী করে তোলার জন্য সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতা আমাদের কাম্য। সকলের প্রতি রইল শুভকামনা।
আমাদের প্রতিষ্ঠান একটি আদর্শ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা গুণগত শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করে আসছি।
এই প্রতিষ্ঠানে আমরা একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও অনুকূল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করি, যেখানে শিক্ষার্থীরা মুক্ত চিন্তা ও সৃজনশীলতার চর্চা করতে পারে।
প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যুগোপযোগী ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ, যত্নশীল প্রশাসন এবং সচেতন অভিভাবকদের সহযোগিতায় আমরা প্রতিনিয়ত অগ্রসর হচ্ছি।
আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক দিকনির্দেশনা, আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান এবং সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
এ কলেজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুপরিকল্পিত পাঠ্যক্রম, সহ-পাঠ্যক্রম কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছাত্রদের শারীরিক ও মানসিক গুণাবলীর সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন যাতে তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও জাতিকে উপযুক্ত নেতৃত্ব দিতে পারে।
Copyright © College |
Powered by Balalkhal Maqbul Ahmed Degree College